ঢাকা , বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ , ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আগামী মাসেই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান

নিউজ ডেস্ক
আপডেট সময় : ২০২৫-১০-০৬ ১৮:১৩:২৩
আগামী মাসেই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান আগামী মাসেই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান

নিউজ ডেস্ক
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তিনি আসন্ন ১৩তম সংসদীয় নির্বাচনের সময় বাংলাদেশে থাকবেন। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমনটি বলেন।
এটি প্রায় দুই দশকের মধ্যে তার প্রথম সাক্ষাৎকার। এতে তিনি নির্বাচন, রাজনীতি এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন।


সাক্ষাৎকারে তারেক বলেন, 'আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে, ইচ্ছা থাকবে, আগ্রহ থাকবে যে প্রত্যাশিত নির্বাচন জনগণ চাইছে, সেই প্রত্যাশিত নির্বাচন যখন অনুষ্ঠিত হবে জনগণের সঙ্গে, জনগণের মাঝেই থাকব।'


তিনি বলেন, 'কিছু সঙ্গত কারণে হয়তো ফেরাটা হয়ে উঠেনি এখনো। তবে সময় তো চলে এসেছে মনে হয়। দ্রæতই ফিরে আসব।'


বিএনপির এই নেতা প্রায় ১৮ বছর ধরে লন্ডনে বসবাস করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সঙ্গে রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক কর্মীর ওতপ্রোত সম্পর্ক। 'কাজেই যেখানে একটি প্রত্যাশিত, জনগণের প্রত্যাশিত নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনের সময় কেমন করে দূরে থাকবো?' 


৫৮ বছর বয়সী তারেক বলেন, বাংলাদেশে তার অনুপস্থিতি শুধুমাত্র শারীরিক। 'ফিজিক্যালি হয়তো আমি এই দেশে (যুক্তরাজ্য) আছি, কিন্তু মন মানসিকতা, সবকিছু মিলিয়ে তো আমি গত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশেই রয়ে গিয়েছি।'


নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, 'জ্বি.. ইনশাআল্লাহ।'


গণমাধ্যমের সঙ্গে তিনি কেন দীর্ঘ সময় কথা বলেননি, জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, 'ব্যাপারটা বোধহয় এরকম নয়, একটু ভিন্ন। আসলে আমি কথা ঠিকই বলেছি। দীর্ঘ ১৭ বছর এখানে আছি এই দেশে, প্রবাস জীবনে। আমার ওপর যখন দলের দায়িত্ব এসে পড়েছে, তারপর থেকে আমি গ্রামে-গঞ্জে আমার নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ, সবার সঙ্গে কথা বলেছি।'


তিনি আরও বলেন, 'আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময় কোর্ট থেকে রীতিমতো একটি আদেশ দিয়ে আমার কথা বলার অধিকার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আমি যদি গণমাধ্যমে কিছু বলতে চাইতাম, হয়তো গণমাধ্যমের ইচ্ছা ছিল ছাপানোর, গণমাধ্যম সেটি ছাপাতে পারত না।'


তারেক রহমান বলেন, 'আমি কথা বলেছি, সামাজিক মাধ্যম সহ বিভিন্ন পন্থায় আমি পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি, আমি ইনশাল্লাহ পৌঁছেছি মানুষের কাছে। কাজেই গণমাধ্যমে যে কথা বলিনি তা, না। আমি কথা বলেছি, হয়তো আপনারা তখন কথা নিতে পারেননি, অথবা শুনতে পারেননি। ইচ্ছা থাকলেও ছাপাতে পারেননি হয়তো প্রচার করতে পারেননি। কিন্তু আমি বলেছি আমি থেমে থাকিনি।'


আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে হাইকোর্ট তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের নির্দেশ দেন। পরের দিন, হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চ সরকারকে আদেশ দেন, দেশে না ফেরা পর্যন্ত তার বক্তব্য ছাপানো, ইলেকট্রনিক বা সামাজিক মাধ্যমে প্রচার বন্ধ করতে দ্রæত পদক্ষেপ নিতে হবে।


গত বছরের ২২ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর হাইকোর্ট সব ধরনের মিডিয়া ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।
বিএনপির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই নেতা কার্যত দলের নেতৃত্বই দিচ্ছেন। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর তার পরিবারের সঙ্গে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তিনি। 


এক-এগারো বলে পরিচিত সেনা সমর্থিত তত্ত¡াবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান। ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জায়মা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে লন্ডনে যান।


বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়, অনুপস্থিত থাকায় তিনি পাঁচটি ভিন্ন মামলায় দন্ডিত হন এবং তার বিরুদ্ধে প্রায় ১০০টি মামলা দায়ের করা হয়। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোনো পেন্ডিং মামলা নেই।


 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ